ঢাকা , শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ক্র্যাশ ডায়েট নয়: জেনে নিন নারীদের ওজন কমানোর সহজ ও নিরাপদ উপায়

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৯-০৫ ১৪:৪১:২১
ক্র্যাশ ডায়েট নয়: জেনে নিন নারীদের ওজন কমানোর সহজ ও নিরাপদ উপায় ক্র্যাশ ডায়েট নয়: জেনে নিন নারীদের ওজন কমানোর সহজ ও নিরাপদ উপায়

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকার নগর জীবনে কর্মব্যস্ততা, অনিয়মিত খাবার, দীর্ঘসময় বসে কাজ করা, মানসিক চাপ এবং পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে অনেক নারী ধীরে ধীরে ওজন বৃদ্ধির সমস্যায় পড়ছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত ওজন শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্যের বিষয় নয়; এটি ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, ফ্যাটি লিভার, পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (PCOS), জয়েন্টের ব্যথা এবং হৃদরোগের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে।

 

অনেকেই ডায়েটিশিয়ানদের কাছে দ্রুত সমাধান চেয়ে থাকেন, যেমন: মেয়েদের দ্রুত ওজন কমানোর উপায়, প্রতিদিন ১ কেজি করে দ্রুত ওজন কমানোর উপায়, কিংবা ৭ দিনে ১০ কেজি ওজন কমানোর উপায়। এভাবে ওজন কমানো অনেক ঝুঁকিপূর্ণ। বয়স, জীবনযাপন, স্বাস্থ্যগত অবস্থা, হরমোন, ওষুধ সেবনের ইতিহাস এবং খাদ্যাভ্যাস বিবেচনা না করে ডায়েট করলে অনেক ক্ষেত্রে উপকারের পরিবর্তে ক্ষতিই হতে পারে। তাই তাড়াহুড়ো করে ওজন কমাতে না গিয়ে সঠিক ও বৈজ্ঞানিকভাবে ওজন কমান।

আজ আমি নিউট্রিশনিস্ট নাহিদা আহমেদ আপনার ওজন কমানোর জার্নিকে সহজ করতে শেয়ার করছি ৫টি অসাধারণ নিনজা টেকনিক:

  • ১০ মিনিট প্রোটিন রুল: সকালের নাস্তায় ২০-২৫ গ্রাম প্রোটিন (যেমন: ডিম, পনির বা বাদাম) রাখুন। এটি সারাদিন বারবার ক্ষুধা লাগার প্রবণতা ও মিষ্টি খাওয়ার তীব্র ইচ্ছা একদম কমিয়ে দেয়।
  • মাইনডফুল চুয়িং (২০ বার চিবানো): প্রতি গ্রাস খাবার অন্তত ২০ বার চিবিয়ে খান। এতে হজম ভালো হয় এবং মস্তিষ্ক সঠিক সময়ে পেট ভরার সংকেত পায়, ফলে অতিরিক্ত খাওয়া আটকানো যায়।
  • হাফ-প্লেট ফর্মুলা: প্রতিবেলার মূল খাবারের প্লেটের ঠিক অর্ধেক অংশ শাকসবজি ও সালাদ দিয়ে পূর্ণ করুন। এটি কম ক্যালোরিতে দ্রুত পেট ভরাতে সাহায্য করে।
  • সার্কাডিয়ান ইটিং: সূর্যাস্তের পর ভারী শর্করা (ভাত, রুটি, আলু) এড়িয়ে চলুন। রাতের খাবারে কেবল হালকা প্রোটিন ও ফাইবারযুক্ত খাবার রাখুন।
  • ছোট প্লেট ট্রিক (ভিজ্যুয়াল ইলিউশন): বড় প্লেটের বদলে ছোট আকৃতির প্লেটে খাবার খান। এতে কম খাবারেই মস্তিষ্ক তৃপ্তবোধ করে।

বর্তমানে প্রযুক্তিও ওজন ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করছে। ক্যালোরি ট্র্যাকিং অ্যাপের মাধ্যমে প্রতিদিনের খাদ্যগ্রহণ পর্যবেক্ষণ করা যায়, ফলে নিজের অভ্যাস সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ে। পাশাপাশি নিয়মিত ফলো-আপ, মোটিভেশনাল সাপোর্ট এবং পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনেকের জন্য পরিকল্পনা অনুসরণ করা সহজ করে তোলে।

এই প্রেক্ষাপটে ঢাকার মিরপুর ডিওএইচএস-এ প্রতিষ্ঠিত ওয়েট লস ক্লিনিক SPED (https://sped.center/) বৈজ্ঞানিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক ওজন ব্যবস্থাপনা সেবা দিয়ে কাজ করছে। এখানে আপনার পছন্দের খাবার ডায়েট চার্টে যুক্ত করেই ২ মাসে ৫ কেজি, ৪ মাসে ১০ কেজি ও ৬ মাসে ১৫ কেজি ওজন কমানো হয়ে থাকে যার কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। প্রতিষ্ঠানটিতে সার্টিফায়েড ডায়েটিশিয়ানরা ক্লায়েন্টের স্বাস্থ্যগত অবস্থা মূল্যায়নের ভিত্তিতে খাদ্য পরিকল্পনা তৈরি করেন। তাদের ওজন নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচিতে একাধিক পরামর্শ সেশন, ক্যালোরি ট্র্যাকিং অ্যাপের ব্যবহার, হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে নিয়মিত মোটিভেশনাল সাপোর্ট এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আন্তর্জাতিক মানের সাপ্লিমেন্ট ব্যবহারের নির্দেশনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ২,০০০-এর বেশি ক্লায়েন্ট তাদের সেবা গ্রহণ করেছেন। গুগলে ১০০-এর বেশি রিভিউর ভিত্তিতে তাদের গড় রেটিং ৪.৯ স্টার এবং ফেসবুকে অনুসরণকারীর সংখ্যা এক লক্ষেরও বেশি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ওজন কমানোর ক্ষেত্রে দ্রুত ফলের চেয়ে নিরাপদ ও দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এটিই ওজন কমানোর সঠিক উপায়। তাই যেকোনো ওজন নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি শুরু করার আগে একজন প্রশিক্ষিত ও যোগ্য পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

 

স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও সঠিক পুষ্টি পরামর্শ পেতে যোগাযোগ করুন SPED-এ।

নিউট্রিশনিস্ট নাহিদা আহমেদ

কনসালটেন্ট, SPED

Website: https://sped.center/

মিরপুর ডিওএইচএস, ঢাকা



নিউজটি আপডেট করেছেন : News Room 3

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ